Monday, December 11, 2017

আবছায়া

ডিসেম্বর মাস ২০১৭। সকাল ৬ঃ৫৪। তাপমাত্রা ঋণাত্মক ১২ ডিগ্রী। মানে শীতকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্ক থেকে যত উপরে থাকে এখানে ঠিক ততটাই নিচে। এটা বর্ণনা করা খুবএকটা সহজ কাজ নয়। শুধুই অনুভব করার।

 বাইরে হিমেল, থুড়ি, হিমেলতর হাওয়ার প্রবাহ অবশ্য আমার জীবনে খুব একটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে না। ঘরের মধ্যে ঘর গরম করার জন্য ব্যবস্থা আছে। আমাকে শুধু একটা সুইচেই চাপ দিতে হয়। সেটা থেকে যে যন্ত্র চালু হয় তা একটা পাইপলাইনের জলকে গরম করে। সেই পাইপ লাইন ঘরের মেঝের নিচে জালকাকারে বিছানো আছে। গরম জল সেই জালের মধ্য দিয়ে গেলে ঘরের মেঝে গরম হয়ে যায় আর সেই সাথে গোটা ঘর। কি অদভুত ভাবনা। কি সরল অথচ কি  কার্যকর। তা সেই গরম মেঝেতে বসে আছি। মেঝের উপর অবশ্য একটা পাতলা বিছানা পাতা। তাতে একটা উষ্ণ অনুভুতি হচ্ছে। 
       


এখনও সূর্যদয় হয় নি। জানালার স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে রাস্তার বাতিগুলো কেমন নির্লিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে কুয়াশা নেই। জানালার কাঁচে হালকা একটা বাস্পের আস্তরণ জমেছিল যা কালক্রমে তরল জল ও বর্তমানে বরফের পাতলা  চাদরে পরিনত হয়েছে। সেই বরফের প্রলেপে রাস্তার আলো প্রতিসরণ হয়ে যখন ঘরে প্রবেশ করছে তার উজ্জ্বলতা অনেকাংশে কমে ম্লান হয়ে আসছে। একটু করুণ হয়ে। পাশের গগনচুম্বি অট্টালিকাগুলোর অনেক ঘরের আলোই জ্বলছে। জানিনা কেও ঘুম থেকে উঠে গেছে নাকি সারা রাত ঘুমোয় নি। ওদের জানালা আর আমার জানালার মৃদু অস্বচ্ছতা সেই আলোগুলোকে রাতের কালো আকাশে মিটমিট তারার মত লাগছে। রাস্তায় যান চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্বের বড় বড় শহর রাত জাগতে পছন্দ করে। তাই সারা রাত গাড়ির কোন বিরাম নেই। রাস্তাগুলো বিশ্রাম পায় শুধুমাত্র এই ভোরের বেলায়। একটু বিশ্রাম। 


আজ ঘটনাক্রমে উঠে গেছি একটু সকাল সকাল। ভোরই বলা যায় বাইরে আলো ফোটেনি যখন। পুত্র নিয়ন ও তার মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে মন্ত্রমুগ্ধের মত এসে বসলাম কম্পিউটারের সামনে। এই যন্ত্রটাই এখন সব। কাজ, বিনোদন। অন্তর্জালে এদিক ওদিক দিকভ্রান্ত হয়ে এসে পৌঁছালাম ব্লগে। হঠাৎ চোখে পড়ল ২০১৭ সালে কিছুই লেখা হয় নি। একটা গোটা বছর যে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। তাই ভবলাম কিছু একটা লিখি। 

ঘরের আলো নেভানো। আধা অন্ধকারে বসে লিখছি। লিখছি বললে ভুল হবে টাইপ করছি কম্পিউটারে। কিবোর্ড়ের হালকা টুকটাক শব্দটা চারিদিকের জমাট নিঃশব্দের বুকে একটু বেমানান লাগছে। এক পেয়ালা গরম চাও বানিয়ে নিয়েছি ইতিমধ্যে। সাথে বিস্কুট। 

জানিনা এরকম সময়ই আবেগ সবসময় আমাকে কেন গ্রাস করে বসে। মন চলে যায় কোন দূর দূরান্তে। স্মৃতিরা ভিড় করে। একএকটা অস্পষ্ট ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ঠিকভাবে দেখার আগেই যেন সেটা চলে যায়। অথবা আর একটা ছবি এসে পড়ে তার উপর। মন অশান্ত হয়ে ওঠে। বিচলিত হয় না। সেই অশান্তিও কেমন স্নিগ্ধতায় ভরা। একটা অবশ অবশ ভাব। যেন নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রন নেই।  হর্ষ বিষাদ মিলে মিশে একাকার। চোখ আপনা আপনি বুজে আসে।    

কতদিন সুর্যদয় দেখি নি। মনে পড়ে না শেষ কবে দেখেছি রাঙ্গা লাল সুর্য আকাশকে রাঙিয়ে দিচ্ছে। অন্ধকার কেটে একটু একটু ফর্সা হচ্ছে।  হয়ত কাক ডাকছে পাশের গাছ থেকে। মামার বাড়িতে থাকলে কোঁকোঁর কোঁক মুর্গির ডাকও শুনতে পাই। হালকা ঠান্ডায় চাদর মুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার বুডো দাদু মাটিতে চাল ছড়িয়ে দিচ্ছে মুর্গিদের খাবার জন্য। পরম যত্নে। এক পাল মুর্গি তা খাবার জন্য দৌড়ে আসছে কোঁক কোঁক করতে করতে। গোয়াল থেকে গরুর হাম্বা হাম্বা আওয়াজ। ওরাও যে জেগেছে। 

একবার সকাল সকাল গিয়েছিলাম জঙ্গলে। শাল দাঁতন বানিয়ে দাঁত মাজার জন্য। সকালের বন আমায় মুগ্ধ করেছিল। শুকনো পাতার উপর চলার মচ মচ শব্দ যেন আমার কানে ভেসে আসছে। 
পাতার কথায় মনে এল, ছোটবেলার ইসপ ফেবেলস বইএ পড়া ঘুঘু আর পিঁপড়ের গল্প। ঘুঘুর ফেলে দেওয়া পাতায় চড়ে কেমন করে পিঁপড়ে ফিরে এসেছিল নদীর পাড়ে। এরকম ভাবে জলের উপর ঘোরার সখ ছিল অনেক দিনের।  

একবার আমাদের গ্রামের পুকুরে একটা ভেলা বানানো হয়েছিল বাঁশ আর খড দিয়ে। মাছ ধরার জন্য। তা জেলেরা সেটা ব্যবহার করার পর পাড়ে বেঁধে রেখে চলে যায়। আমি দেখছিলাম সবকিছু আগাগোড়া আড়াল থেকে। জেলেরা চলে যেতেই আমার কৌতুহলি মন জেগে উঠল। আমি উঠে পড়লাম সেই ভেলায় আর দড়ি দিলাম খুলে। কিছুটা যেতে না যেতেই শুকনো খড় ভিজতে শুরু করল। আর ডুবতে শুরু করল ভেলা। এদিকে আমি সাঁতার জানি না। ভাগ্যিস তখন একজন এসেছিল পুকুরঘাটে। উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল ঘরে। আর ছোটবেলার সবসময়ের পুরস্কার বিনা পয়সায় বকুনির অভাব ঘটে নি। 

একবার এমনি ভাবেই আমি বসে ছিলাম পুকুরের পাড়ে বহুক্ষণ। বেশ কয়েক ঘন্টা। একটা কাঁকড়ার খোঁজে। এক বন্ধু আমাকে গল্প শুনিয়েছিল সে নাকি কাঁকড়ার পায়ে দড়ি বেঁধে খেলার ধানক্ষেত চাষ করেছিল কাঁকড়ার দাঁড়া দিয়ে। আমারও মনে হয়েছিল আমারও একটা কাঁকড়া চাই। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কাঁকড়া কোথায় পেলি? সে বলেছিল পুকুরের পাড়ে বসেছিলাম। একটা কাঁকড়া জল থেকে উঠে এল। আমি গিয়ে ধরে ফেললাম। আমিও অপেক্ষা করেছিলাম পুকুরপাড়ে জলের ধারে। ঘন্টার পর ঘন্টা চেয়ে ছিলাম জলের দিকে। অধির আগ্রহে। কোন কাঁকড়া উঠে আসে নি। 

বসে থাকার আর একটা কাহিনী মনে আসছে। তখন ছোট ছিলাম। অনেক ছোট। সবে হয়ত গুনতে শিখেছি। ঘরের দেওয়াল ঘড়িটা দেখিয়ে বাড়িতে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কি? কাকু বলেছিল এটা দিয়ে সময় মাপা যায়। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি ভাবে? কাকু বলেছিল এই যে বড় কাঁটাটা আছে সেটা এক পাক ঘুরলে এক ঘন্টা হয়। কাকু আমাকে ছোট ভেবে সেদিনের ক্লাস ওখানেই শেষ করেছিল। আমি ভেবেছিলাম আমি জেনে গেছি সময় কি আর ঘড়ি কি ভাবে দেখে। সেদিন দুপুরে বাড়ির সবাই অলস আড্ডায় ব্যস্ত ছিল। কেও একটা আনমনে জিজ্ঞাসা করেছিল কটা বাজে? হঠাৎ আমি বলে উঠেছিলাম আমি দেখে আসছি কটা বাজে। আমার জ্ঞান এটুকুই যে বড় কাঁটাটা একবার ঘুরলে এক ঘন্টা হয়। সেদিন আমি ঘড়ির সামনে একঘন্টা বসেছিলাম। উত্তপ্ত দুপুরে কেও খেয়াল করে নি আমি কত ঘামছি। এক ঘন্টা পর যখন আমি ফিরে এসেছিলাম কেও আমাকে জিজ্ঞাসা করে নি কটা বাজে। আমি মনে করিয়ে দিয়েছিলাম যে আমি ঘড়ি দেখতে গিয়েছিলাম। ঘরের সবাই তো অবাক। এতক্ষন কি করছিলাম। যাই হোক শেষে জিজ্ঞাসা করেছিল কটা বাজে। আমার উত্তর ছিল এক ঘন্টা হয়ে গেছে। সেদিন না বুঝলেও পরে বুঝেছিলাম কেন তখন ঘরে হাসির রোল উঠেছিল।
 
দুপুর মানেই তা শেষ হয়ে আসবে বিকেল। আর বিকেল মানেই খেলা। খেলার মাঠে যে কি কি ঘটেছিল সেই ছবি একটার পর একটা এসেই চলেছে। অজস্র। অফুরন্ত। ছেলেবেলাটাই যে কেটেছে খেলার মাঠে। কখনও ভাবি নি বিকেল বেলাও ঘরের ভেতর কাটানো যায়। সেই বর্ষার বিকেলে কাদামাঠে ফুটবল খেলা আর একবার খেলতে চাই। সেই সারা বিকেল এদিক সেদিক সাইকেল নিয়ে ঘোরা আর একবার ঘুরতে চাই। ঘড়িকে পিছনে ঘুরিয়ে যেতে চাই সেই বিকেলে যেদিন বন্ধুদের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে চলে গিয়েছিলাম অনেক দূর ঘর থেকে। লুকোবার জন্য। কিন্তু লুকোবার জায়গা পাই নি। বন্ধুরা খুঁজে না পেয়ে আমাকে ছাড়াই শুরু করেছিল খেলা। সন্ধ্যা হতে সবাই ফিরে গিয়েছিল ঘরে। আমি ছাড়া। অজানা জায়গায় সন্ধ্যা হওয়ায় রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলাম। অন্য গ্রামের কোন অজানা লোক সাইকেলে করে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছিল ঘরে। ঘরের বকুনি তো উপরি পাওনা। 

সেদিন ভাবি নি আজ কুড়ি তিরিশ বছর পর কোন এক ঠান্ডা সকালে দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সেই দিনের ঘটনা চোখে জল আনবে। হারিয়ে যেতে চাই আবার সেদিনের মত। জানি আজ আর কেও সাইকেলে করে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে যাবে না ঘরে। সাইকেলের হয়ত অভাব নেই এখনও কিন্তু ঘরের বড় অভাব। ছোট থেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা ঘুরতে ঘুরতে যেমন দুনিয়াকে ঘর করে নিয়েছি তেমনি হারিয়েছি নিজের ঠিকানা। ঘর বলতে আর কোন জায়গার ছবি হঠাৎ মাথায় আসে না। একটা ঘর চাই। 

বাইরে ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। লাল হচ্ছে আকাশ। পাশের পাহাড়ের মাথার উপর তার আভা এসে পড়েছে। কি সুন্দর।  স্বপ্ন দেখছি কি? কেন বার বার মনে হচ্ছে কবে কোথাও ঘটেছে এই ঘটনা। মনটা কেন শিশু হয়ে উঠছে আজ? 

রাস্তায় একটা গাড়ির হর্নের বিকট আওয়াজ নিঃশব্দ খান খান করে দিল।  

সব সুন্দরই কোন অসুন্দরকে ঢাকার চাদর। সুন্দরের ঠিক নিচে থাকে একটা কঠোর বাস্তব। যেমন ওই ঢেও  খেলান অপরূপ পাহাড়ের নিচেই আছে কঠিন পাথর, ওই লাল সুর্যের ভেতর আছে গনগনে আগুন।  

ফিরে এলাম বাস্তবে। সিওল। ১২ই ডিসেম্বর। বাইরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫ ডিগ্রী নিচে। 

পুত্র নিয়ন হাত পা নাড়তে শুরু করেছে। খেলতে হবে ওর সাথে। দেখি ছেলেবেলা আবার শুরু করতে পারি কি না। 

Tuesday, November 29, 2016

ডিয়ার িZ নদেগি

ডিয়ার িZ নদেগি,
যখন তুমি বলেছিলে বড় নোট পাল্টে ফেললে অন্তত ভারতের মধ্যে থাকা কাল টাকা শেষ হয়ে যাবে, সৎ (অন্তত তুমি তাই বলেছিলে) ও সাদা টাকাধারি সাধারণ মানুষের শত অসুবিধা সত্ত্বেও আমি তোমাকে সমর্থন করেছিলাম।

অনেক বড় বড় অর্থনিতিবিদ (যার মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনিতিবিদ ডঃ অমর্ত সেনও আছেন) যখন বলছেন যে এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনিতিতে দীর্ঘমেয়াদী খারাপ ছাপ ফেলবে তখনও আমি তোমাকে সমর্থন করেছিলাম। কারন ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়েছে যে সৎ পথে কামানো ডাল ভাত অসৎ পথে কামানো বিরিয়ানির থেকে ভাল।

আমি আর আরও লক্ষ লক্ষ লোক, যারা কোন দোষ না করা সত্ত্বেও হাসিমুখে ব্যাঙ্কএর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, শুধুমাত্র এটাই চেয়েছিলাম যে তুমি কালটাকাধারিদের শাস্তি দাও।

কিন্তু ডিয়ার িZ নদেগি,
আমরা ভগ্নহ্রিদয়ে দেখছি সংসদে কালো টাকা ধারিদের মাফ করার জন্য বিল পাস হচ্ছে। কালো টাকার ৫০ % সরকারকে দাও আর কালো টাকা সাদা? এই কারনেই কি তুমি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেদের সীমান্তে পাহারারত সৈনিকদের সাথে তুলনা করেছিলে? এটাই কি তোমার সৈনিকদের প্রতি তোমার সম্মান? একজন আতঙ্কবাদীকে ধরো, সে তার দোষ স্বীকার করুক আর তাকে যেতে দাও? ডিয়ার িZ নদেগি,

আমি জানি যে তুমি বলেছো তুমি ওই টাকাগুলো গরীব লোকেদের জন্য খরচ করবে। কিন্তু দয়া করে বোঝার চেষ্টা করো আমাদের (এমনকি গরিবদেরও) টাকা কম নেই, আমাদের যেটা কম ছিল আর যেটা তুমি দেবে বলে অঙ্গীকার করেছিলে সেটা হল সম্মান।

একটা চোর আমাদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। তুমি এসে আমাদের পেটালে চোরটাকে ধরার জন্য, আমরা ছুটে গিয়ে চোরটাকে ধরলাম, তখন তুমি চোরটাকে বললে চুরির মালের অর্ধেক আমাদের দিয়ে পালিয়ে যেতে?

ডিয়ার িZ নদেগি,
তুমি যখন তোমার ছাতির পরিধি শুনিয়েছিলে আমরা ন্যানোমিটারের চেয়ে কম দৈর্ঘ মাপতে সক্ষম হওয়া সত্তেও তোমাকে সন্দেহ করিনি। কিন্তু আমার বিনিত নিবেদন এই যে তোমার কাছে আরও ৩০ দিন মত আছে (তুমি ৫০ দিন চেয়েছিলে), টাকার সাথে আমাদের সম্মানটা ফিরিয়ে এনে দাও। নাহলে.........!!! নাঃ আমাকে বলতে হবে না নাহলে কি হবে !!!

এই ব্যাপারে আমি তোমারই উদ্ধৃতি (বানানটা ঠিক করে টাইপ করা গেল না) তুলে ধরতে চাই " আমার প্রিয় দেশবাসি, আমাকে ৫০ দিন দিন, আমি 
আপনারা যে রকম ভারতবর্ষ চান সে রকম ভারতবর্ষ আপনাদের দেব। না হলে আপনারা যে চার রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াতে 
বলবেন আমি সেই চৌরাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াব আর যে সাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব।"

ডিয়ার িZ নদেগি,

আমি তোমাকে ভালবাসি। দয়া করে নিজের অঙ্গীকার পুরন করো। না হলে ভালবাসার মানুষকে কিছু করা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে যাবে। 



Dear Zindagi,
When you promised that changing the big notes will end the black money, at least which is present inside India, despite the problems of white money holder honest (You told this) and common people I supported it.
Despite the fact that many well known Economists (Including Noble prize winner Dr Amarta Sen) are saying that due to this decision India will have to face long term negative effect on Indian Economy, I supported the decision. Because from the childhood we are taught to have simple rice and dal by earning honestly than eating biriyani earning by other way.
Me and other millions of people, who have done no wrong and still standing in the long queue towards the bank counter with smile in face, just wanted that you will punish the black money holders.
But what is this dear Zindagi? We saw bills are passing just to forgive the culprits. Give 50% of your black money to government and its white? Is this the reason the people were standing in the queue were compared with soldiers in the border? This is how you respect the soldiers? Catch a terrorist, just let him/her confess the terror and let them go?
Dear Zindagi, I know you told that you will spend those money for the poor, but please understand we dont lack food or money (Yes even the poor), what we were lacking and you promished to fulfill is dignity.

A thief stole our money, you beat us to chase the thief, and when we caught him/her you just asked the thief to give the half of the stolen thing to us and let them go?

Dear Zindagi,
When you announced the circumference of your chest we didn't doubt it despite the fact that we can measure even less than nanometer scale. But I humbly request you that you have still ~30 days left (You asked 50 days) and please bring us back our respect not only the money. Otherwise ........!!! Sorry I dont have to say what will be Otherwise !!!
Because even you told that also I just want to quote you "Give me 50 days. I shall give you what kind of India you want. Otherwise I shall come to the crossroad where you want and I shall take the punishment what you give me".
Dear Zindagi,
We love you please fulfill your promise. Otherwise it will be very difficult for us to do something whom we love.

Saturday, November 5, 2016

দিনলিপি - জেবুদো (জেবুদ্বীপ)

২০১৬/১১/০৫
আজ শনিবার। কাল থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম আজ ক্রুতিকে নিয়ে যাব ইনছন তারপর ফিরে আসব ল্যাব শেষ করে। কারন শনিবার তাড়াতাড়ি ল্যাব শেষ হয়ে যায়। তা ছাড়া আর একটা মজার জিনিষ করার ছিল। ভেবেছিলাম শনিবার রাস্তায় ট্রাফিক কম থাকে তাই এক ঘন্টার মধ্যে পৌছে যাব ইনছন। 
গাড়ি নিয়ে বের হলাম অনেক আশা নিয়ে যে ফাঁকা রাস্তায় সাঁই সাঁই গাড়ি চালাব। কিন্তু সব আসায় জল ঢেলে রাস্তায় এত ভিড় যে গাড়ি ধিরে ধিরে চলতে লাগল। যাই হোক, আমি আবার কায়দা করতে গিয়ে হাইওয়ে ছেড়ে অন্য রাস্তায় ঢুকলাম তাড়াতাড়ি যাবার জন্য। কিন্তু সে আবার হিতে বিপরীত। আরো জ্যাম আর ট্রাফিক। মেজাজ অত্যন্ত বিগড়ে গেল। অনেক কষ্টে নিজেকে ঠিক রাখলাম। সবচে বড় ব্যাপার এতই দেরি হল যে ল্যাবে ১২ টার পর পৌছালাম। 
যাক, যা হবার হয়ে গেছে। ল্যাবে তো পৌছনো গেল না। ক্রুতি একটা আইডিয়া দিল। আমরা রেষ্টুরেন্টে খাব। খেলাম আরবিক্সএ। সলমন মাছ। আর বিরিয়ানি রাইস। 
তারপর আইডিয়াটা এল আমার মাথায়। দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে। একটু গ্রাম দেখে। ম্যাপ খুলে দেখলাম ৫০-৬০ কিলোমিটারের মধ্যে একটা ছোট দ্বীপ আছে। ব্যাস বেরিয়ে পড়লাম। 
সুন্দর ছিল এই সফর।
























Sunday, October 30, 2016

এমনি একটা বিকেল

আমাদের দেশে হেমন্ত কালটা আছে বটে তবে শরৎ আর শীতের মাঝে ঠিক অনুভব করা যায় না। এখানে হেমন্ত কালটা বেশ বোঝা যায়। যদিও হেমন্ত কালের সঠিক অনুবাদ Autumn হয় কিনা ঠিক বলা যায় না। এখানে গাছের পাতাগুলো নানা রঙ্গে পালটে যায়। লাল হলুদ গেরুয়া, আরও কত কি। অপরূপ সুন্দর হয়ে যায় চারদিক। আমার বাড়ির কাছে একটা পাহাড় আছে। সেখানেও চারদিকে দারুন রঙ্গে ভরে ওঠে। এই সপ্তাহে ভেবেছিলাম সেই রঙ এসে গেছে। তাই ছবি তুলতে গিয়েছিলাম সেখানে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম এখনও ভালভাবে সব গাছে রঙ আসে নি। একটু হতাশ হলাম । তাই শহর থেকে একটু দূরে যেতে ইচ্ছা করল।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ। ঠান্ডা একটু বেড়েছে বটে। পাড়ি দিলাম শহর থেকে দূরে। শিওল শহরের উত্তরে, উত্তর কোরিয়ার সিমানার কাছে একটা ছোট শহর বা গ্রাম পাজু। গ্রামের দিকে এলাম অনেক দিন পর। সদ্য ধান কাটা হয়েছে। চারিদিকে সেই চেনা ধানের গন্ধ। আহা আমার ছোটোবেলার গন্ধ। মন কেমন করছিল ঘরের জন্য। আজ সেখানে সবাই বাজি পোড়াচ্ছে। দেওয়ালি যে আজ। মাঠের মধ্যে দিয়ে সুন্দর রাস্তা। আর থাকতে পারলাম না। নেমে পড়লাম ফাঁকা ক্ষেতে। একটু দূরে লঙ্কা, তিল, বাঁধাকপির ক্ষেত। হাত দিয়ে ছুয়ে দেখলাম। স্মৃতির চাকাটা অনেক ঘুরে গেল।
সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। ঠান্ডা বাড়ছিল। দূরে পাহাড়ের কোলে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছিল রবিমামা।
ঘরে ফিরতে হবে।















Saturday, May 28, 2016

সন্ধ্যাবেলা

সন্ধ্যাবেলা একটা কেমন যেন সময়। বেশ দিন ছিল। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ টুপ করে সূর্যটা ডুবে যায়। লাল আলোটা ছড়ায় বটে তবে কেমন মন কেমন করা। খুশির থেকে মনমরা ভাবটা যেন একটু বেশি। কেমন যেন একটা ভয় ভয় ভাব। এখুনি চলে যাবে। ভাল সিনেমার শেষে যেমনটা হয় না। মনে হয় আর একটু হলে হত কিন্তু ঠিক শেষ হয়েই যাবে। একটা ধরতে না পারা একটা পিছলে যাওয়া অনুভূতি। ঠিক যেন আইস্ক্রিম খাওয়ার মত। এই বুঝি গলে জল হয়ে যায়। তারপর কালসন্ধ্যাবেলা। আরো অবশ করা। শুনেছি এই কালসন্ধ্যাবেলাতেই নাকি হিরণ্যকশিপু ঢলে পড়েছিল মৃত্যুর কোলে। একটা না আলো না ছায়া ভাব। আলো ভাল, আঁধারও ভাল। কিন্তু এই আলো আঁধারিটা ঠিক যেন সওয়া যায় না। 
ছোটবেলায় যখন বিকেলে খেলতে যেতাম তখন সন্ধ্যাবেলা ছিল ঘর ফিরে আসার সময়। অনেক বাড়ি থেকে শাঁখের আওয়াজ আসত। বাড়ি ফিরে দেখতাম মা সন্ধ্যা দিচ্ছে মানে প্রদীপ জ্বালাচ্ছে তুলসীতলায়। খেলার পরে বাধ্যতামূলক ছিল হাত পা ধুয়ে বাড়ি ঢোকা। বাডির বড়রা নজর রাখতো। হাত পা ধুলাম কি না। 
শীতকালে সন্ধ্যা বড় তাড়াতাড়ি হয়ে যেত। খেলার সময়টা অনেক কমে যেত। তার উপর যেই খেলা শেষ করতাম শীতটা যেন হঠাৎ চেপে বসত। মা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতো সোয়েটার নিয়ে। ছোটবেলা মানে অনেক ছোটবেলা, যখনও আমি হোস্টেলে যাই নি। 
শীতকালে বোরো ধান কাটা হত। বোরো ধানে নাকি অনেক কীটনাসক থাকে। তার উপর বোরো ধানে অনেক বড় বড় রোঁয়া থাকত। বিকেলবেলায় একটা প্রধান খেলা ছিল ধানের জাঙ্গির / গাদার (এটার আর বঙ্গানুবাদ করতে পারলাম না, যে জানে সে জানে) উপর উঠে লাফালাফি করা। ফলে অবধারিতভাবে যখন খেলা শেষ হত তখন বোঝা মুস্কিল যে খেলে ফিরছি কি রণক্ষেত্র থেকে ফিরছি। সারা হাত পা কেটে যেত খড়ের রোঁয়ার। তা থেকে রক্ত বের হত। তখন কি যে ম্যাজিক করা থাকত জানি না, যন্ত্রণার কোন বালাই থাকত না। থুড়ি, যন্ত্রনা হত যখন পড়তে বসতাম। তখন রাজ্যের যন্ত্রনা। তার উপর মায়ের বকুনি। আশ্চর্যের ব্যাপার পরের দিন আবার যে কে সেই। সেই খড়ের গাদা, সেই লাফালাফি সেই ধুল্‌ সেই কাকুর/বাবার অবিচ্ছিন্ন বকুনি। খড়ের গাদা আমাদের কাছে খেলা হলেও বড়দের কাছে কাজ। 
যাই হোক বিকেলবেলা বলতে বসিনি এখন, বসেছি সন্ধ্যাবেলা বলতে। যেই বিকেলটা শেষ হয়ে যেত ঝুপ করে নেমে আসত অন্ধকার। হঠাত সব চুপচাপ। ঘর ঢোকার সময় মন্দিরে পুজো হত। তার প্রসাদের জন্য অপেক্ষা করতাম। 
সেই কাঁসর ঘন্টা আজও বাজে। সেই প্রদীপ এখনও জ্বলে। সেই প্রসাদ আজও বিলি হয়, সেটা নিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হুটোপাটি করে। লুকিয়ে লুকিয়ে দুবার প্রসাদ নেবার চেষ্টা চালায়। বিশেষ করে শীতকালে (না গ্রীষ্মকালে??) স্বর্গবাতি জ্বালানো হয়। অনেক উঁচুতে একটা বাঁশের উপর একটা প্রদীপ জ্বালানো হয়, একটা লাল শালুর ঘরে, যেটাকে স্বর্গবাতি বলে। কাঁসর ঘন্টা কে বাজাবে সেই নিয়ে ঝগড়া হয় আজও , মনে হয়, মানে তাই তো হওয়া উচিৎ। বামুন-ঠাকুরের পুজো কখন শেষ হবে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা, শাঁখ বাজলেই শান্তিরজল ছেটানো। সেই শান্তিরজল যাতে পায়ে না লাগে তার জন্য পা গুটিয়ে বসা, মায়ের আঁচল দিয়ে পা ঢেকে নেওয়া, পাশের সবার পা ঢেকে দেওয়া, সবই হয় - তাই তো মনে হয়। 
সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ সূর্য ডুবে যাওয়া - আবার তারই মাঝে কত কাজ। সবই সারতে হয় দ্রুত। না হলে অন্ধকার হয়ে যাবে। 
কতদিন হয়ে গেল সূর্য ডোবার পর অন্ধকার দেখি নি। সন্ধ্যার সেই মনকেমন করা ভাব ল্যাবরাটরির নিরন্তর আলোয় জায়গা খুঁজে পায় না। তবু হঠাৎ জানালার ফাঁক দিয়ে সেই লাল রংটা দেখলে মাঝে মাঝে বুকের ভেতর কোথাও যেন কি একটা মাথা আলোআঁধারি আবছা আবছা ভেসে ওঠে। হৃদগতিটা একটু ওঠানামা শুরু করে। যেমন এখন করছে।

Friday, November 27, 2015

I am the owner of the house !!!

My father told me a story.

In small village one beggar was begging from door to door. Generally villagers are very kind and they give a handful of rice to any beggar. But probably there is a common ritual everybody follows. The beggar have to come before noon (12 o’clock).
The beggar in our story was going door to door and violated the time rule and reached to a door step after 12. When he asked for some rice a married woman came out and told “Since the morning is past you cannot get anything today”. The beggar had nothing to say and went away from that house. On the way he meet the mother-in-law of the woman. She asked “What happed? You are not looking happy?”
“Actually I went your home but your daughter-in-law refused to give anything as the morning is passed” the beggar replied.
The mother-in-law was surprised and told him “Come with me to my home”. The beggar started following her. He was expecting some food or money from her.
When they reached to her house the mother-in-law told to the beggar in a harsh voice “Don’t you have any sense of timing? It is noon and you came for begging? You shall not get anything today”.
The beggar was shocked by the lady’s reaction.
He begged an explanation “I was already going when your daughter-in-law told the same thing. Then why did you call me back?”
The mother-in-law replied “This is my house. I am the owner of the house. Who is she to tell you to go? It is I who will decide it. Now get lost from my door.”
                            
                               


I am finding the similar situation in current happening in India. Everybody when apply for job, the first reaction is “Aabe naukri nehi milega yaar (There is no job)”, whenever the bus fall in a pothole is road the first reaction “S*** C***** sarkar bas paisa khayega or rasta nehi banayega”. Whenever the youtube video will buffer due to slow internet spontaneous reaction “Humare des me kuch nehi ho sakta”, when ever we return to home at night and we feel insecure we blame police and government. The list of our reaction goes on and on in case of getting driving license, getting birth certificate, getting direct government job without giving bribe, the unemployment, slow justice system, high price of general commodities, traffic jam etc etc.
Now when some people expressed their view about Intolerance (Whether it exists or not that is different question and the real debate should be on that issue and if exist how we can remove it?) the question we are raising is “Who are they to tell you that there are problems in India? I am the only person who can declare this.” Very cheap way to show that you are the real owner of this country.

We should change our habit as soon as possible (including me) otherwise the situation will be far worse than now. It’s a alarming call for everyone to come up and lets solve our problems together instead of showing false patriotism. Politics will always be there. But behaving properly is more urgent now. 

Wednesday, November 25, 2015

The sift in direction of debate: From tolerance to Aamir Khan

I was very angry on Aamir Khan. Even reacted very strongly in facebook. Later when I sat quietly and thought seriously some different thought came in my mind. Why people got very angry on Aamir Khan and are we getting intolerant day by day?
Well, first of all doesn’t matter how strongly we claim, there is never an absolute neutral stand point. Still I try to analyze th
e situation and be as less as partial in this case.
Two major things, first why suddenly we become so angry on Aamir Khan? I think it was less because he was talking about intolerance. It was because how the news was presented and spread. Instead of full speech in the first video part of his speech was presented which totally changed the meaning of his speech.
Secondly, the most loose comment (many be unintentionally) he made is saying her wife want to go out of India. This is the point which hurt most to the common people including me. It is true that India is not a heaven where all facilities are available and all freedom of speech is there. Even it is not the case that there is no discrimination is there. But even a poor boy from a remote village who is suffering lots of problems from the childhood don’t find leaving the country is the first solution for them. It is a magical emotion among all country people. Even if somebody goes out of the country the mind always remain in his/her own country. It is like a bond. Now whether this is the ultimate feeling or not can be another debate and we can discuss it later. That’s why it hurt to most of the Indians when he told that his wife wanted to leave India. But if we just forget the exact example of leaving the country the rest of the discussion was fine.
Now another very crucial aspect of this discussion, the politics. Recently BJP government came to power and they came to a very high majority (even if the total vote is less, at least the seat is more) and we can easily assume that there are very high numbers of followers for BJP. What BJP successfully did in last one year (even if not during the election campaign) is mixing the nationality with Hinduism. Of course they did. It is good or bad, helpful or harmful that is different question. But no one can deny the fact that this is the first time in Indian history (keeping in mind the last BJP government) when a political party showed the highest level of religious influence in common people.
It is true that every country have their own sentiment to be integrated. So if Indian People become more patriotic in the name of Hinduism there is no harm in it. But the most harmful situation came for this is it directly raised a question of maintaining the diversity. Even though our prime minister always talk about diversity but in practice it is very difficult to maintain the diversity if we do not recognize it by name. Yes name matters so much sometime.
The worst situation is not that we become intolerance; it will certainly become less within few days. People don’t have that much of time to keep the hate for certain community (even if it exists). People saw many communal fight in past and we recovered.
The worst part of this tolerance and intolerance debate is we started to compare ourselves with Pakistan, Saudi Arabia, and even Syria to show that we are so much tolerant. With respect to Dadri incident we are giving example of Sikh riot to prove that it is less than that. Where are we heading to? It is like taking pain killer and forgets the pain. Are we not putting the country in danger to just support a government? Of course nobody resist anybody to support a party or government. But we have to remember always country is more important than a particular government. Government will come and go but at the end of the day what will remain is country. No party is perfect. If a party is 95% correct it is better to make it 100% perfect in staid of hiding that 5%.
I want to end this by repeating what our PM said in England India is the country of Buddha and Gandhi and many more great persons. If we want to compare ourselves please compare with the great thought of them not with Pakistan, Afganistan and Sirya. Come on India. If something is going wrong (not because Aamir khan told) let’s fix it. Be Indian to be patriotic.