Wednesday, May 2, 2018

ক্লোথ ডাইপার - এক পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক শিশুকাল

এখন এমন একটা জিনিস নিয়ে কথা বলতে চলেছি যেটা খুব একটা মজাদার নয়। ডাইপার। বাচ্চাদের ডাইপার। এটার বঙ্গানুবাদ কি তা জানি না। এটা আমাদের বাংলায় উৎপত্তি নয় বলেই মনে হয়। তাই বাংলা নাম নেই। যাই হোক, ডাইপার কে ডাইপার নামেই ডাকা যাক।

যখন অামাদের ছেলে জন্মাল বিদেশ বিভুঁইএ অামরা দুজন অনভিজ্ঞ মানুষ। বাকি সব কিছু সামলে নিলেও সমস্যায় পড়লাম ছেলের মলমুত্র নিয়ে। হ্যাঁ শুনতে যত খারাপ লাগে নিজে হাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে তার চেও কঠিন। তবু সন্তান স্নেহ বলে কথা। বিনা বাক্যব্যায়ে করে যেতে লাগলাম। বাচ্চা সত্যি অপুর্ব। কিন্তু এর পেছনে যে এত করুণ কাহিনী লুকিয়ে থাকে আগে জানা ছিল না। সঠিক গুনি নি। তবে এ তো দেখি প্রতি ১০-১৫ মিনিট পর পর প্যান্ট ভেজাচ্ছে। আর ভিজলেই কান্না। মানে সেটাই তার ভাষা। বলছে ভিজে গেছে। পালটে দাও। আমরা ওর জন্মের আগে থেকেই অনেক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। বেশ কয়েকটা প্যান্ট, জামা, বিছানা। মজুত ছিল। কিন্তু কোথায় কি? ছোট্ট সোনা তো আমাদের সব হিসাব ওলোট পালট করে দিল। অর্ধেক দিন যেতে না যেতেই সব শেষ। এবার কি করি?

একদিকে ঘরের কাজ প্রচুর। মানে অন্তত রান্না বান্না টা তো করতে হবে। ছেলের মা ছেলের জন্মের পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে নি। তার উপর ওকে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। আমাদের সাহায্য করার জন্য আমার মা এসেছিল। মা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা জামা প্যান্ট আর বিছানা কেচে শুকোতে দিয়ে দিল। কিন্তু শুকোতেও তো সময় লাগে।

বাজার থেকে কিছু ডাইপার কিনে আনলাম। জিনিসটা বেশ ভাল। আমাদের সব সমস্যার সমাধান করে দিল।

কিন্তু দেখা দিল নুতন সমস্যা। এক তো ডাইপার এত দাম (কোরিয়াতে সব শিশুদের জিনিশই খুব দামি) যে মাসে একটা বড় টাকা এর পিছনে চলে যাবে। তার উপর ব্যবহার করা ডাইপার ফেলি কোথায়? আমরা সাধারনত ঘরের ময়লা সরকার নির্দেশিত পলিথিন এর ব্যাগে ভরে বাইরে ডাষ্টবিনে ফেলে আসি। সেক্ষেত্রে দু তিন দিনে একবার ফেললেই যথেষ্ট। সারা দিনে ছয় সাত ডাইপার রাখি কোথায়? জমা করলে ঘরে তার গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। এ তো মহা সমস্যা।
আমার পাশের ঘরে একজন আমেরিকান মহিলা থাকেন। তিনি মাঝে মাঝেই আমাদের ঘরে আসেন। ভারতীয় খাবার খান। আড্ডা মারেন। উনি আমাদের অবস্থা দেখে বললেন "আপনারা ক্লোথ ডাইপার ব্যবহার করেন না কেন?"
আমরা অবাক হলাম।।সেটা আবার কি বস্তু? তা তিনিই ব্যাখ্যা করলেন।


ক্লোথ ডাইপার হল কাপড়ের তৈরি এক রকম ডাইপার। এটা বার বার ব্যবহার করা যায়।  অনেকটা প্যান্ট এর মত দেখতে। প্যান্টের নিচের দিকে একটা পকেট মত আছে। সেখানে শোষণ করার মত নরম কাপড়ের মোটা রুমালের মত (ইংরাজিতে ইনসার্ট বলে) কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ইনসার্ট তরলকে শুষে নিতে পারে। পকেটের যে অংশ শিশুর ত্বকের সাথে লেগে থাকে সেটি নরম সছিদ্র  সুদ কাপড়ের (Suede Cloth) তৈরি হয়। এর বৈশিষ্ট হল এটি ভেতরের ইনসার্ট ভিজে গেলেও শিশুর ত্বককে ভিজে অনুভুতি হতে দেয় না। এটি শিশুর মল মুত্র থেকে দাগ লাগতেও দেয় না। বিশেষ করে শিশুর মল  এতে আটকে যায় না। ফলে শিশু পায়খানা করলেও খুব সহজে পরিস্কার করা যায়। 

ক্লোথ ডাইপারের বাইরের স্তর পলিএস্টারের তৈরি। এটি জলে ভেজে না। ফলে শিশু পেচ্ছাপ করলেও সেটি বাইরে বের হয় না। 

সরল কথায়, ক্লোথ ডাইপার সাধারণ ডাইপারের মতই কাজ করে। উপরন্তু এটি এক বার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয় না।

তা আমরা জিনিসটা কি দেখার জন্য অর্ডার দিলাম। সে এক মহা ঝঞ্ঝাট। কোরিয়াতে পাওয়া যায় না। বা খুব দাম। আমাজন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। কিন্তু আমাজন কোরিয়াতে নেই। ফলে সেই প্রতিবেশিই সহায়। আমেরিকাতে কিনে পোষ্টএর মাধ্যমে পেলাম ক্লোথ ডাইপার। 

জিনিসটা সত্যিই খুব কাজের। আমাদের সমস্যা অনেকটাই সহজ হয়ে গেল। এক একটা ডাইপার ৫-৬ মাসের শিশু পর্যন্ত ৪-৫ ঘন্টা পরিয়ে রাখা যায়। মানে সারা দিনে ৬-৭ টা ডাইপার লাগে। সারা দিন যা ভিজল তা রাতে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিলাম। রাতের জন্য ৩ তে রেখে। সকালে সেগুলো শুকনো পেয়ে গেলাম। আর রাতে যেগুলো ভিজল সেগুলো সকালে কেচে নিলাম। 

এতে আরো একটা দারুন সুবিধা আছে। শিশুর কোমর আর পায়ের মাপ অনুযায়ি ছোট বড় করা যায়। ফলে বয়সের বাড়ার সাথে সাথে নূতন কিনতে হয় না। 

আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ি ১ বছর বয়স বয়সি শিশু পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করা যায় ক্লোথ ডাইপার। 

এখন আসি দামের প্রসঙ্গে। দাম সব সময় একটা গুরুত্ত্বপুর্ণ অঙ্গ। বিশেষত মধ্যবিত্ত্য পরিবারে। ভারতের বাজারে সাধারণত সবচে কম দামি ডাইপার ৭-১০ টাকা দাম। মানে দিনে ৫ টা ব্যবহার করলেও দিনে ৩৫-৫০ টাকা খরচ। মানে মাসে ১৫০০ টাকা। ৬ মাসে ৯০০০ টাকা। এক বছরে ১৮০০০ টাকা। 

ক্লোথ ডাইপার ভারতীয় বাজারে ~৪০০ (চার শত) টাকা। ৬ টা কিনলে ২৪০০ টাকা। এগুলো প্রায় ১ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। মানে এক বার ~২৫০০ টাকা দিলে আর কোন খরচ নেই। সাথে আলাদা করে প্যান্ট কিনতে হয় না। ক্লোথ ডাইপার অনেক রঙে, ছাপায় পাওয়া যায়। তাই পরলে দেখতেও ভাল লাগে। আলাদা করে বিছানা কিনতে হয় না (কারণ এটা ব্যবহার করলে বিছানা ভেজে না)। শিশু ভেজা ভাব অনুভব করে না। সবচে গুরুত্ত্বপুর্ণ হল স্বাস্থ। শিশুর মল মুত্র এখানে ওখানে লেগে যায় না বা শিশু হাত দিতে পারে না। ফলে শিশুর স্বাস্থ ভাল থাকে। 

ভারতে এখন অনেক বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে। সরকার স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালাচ্ছে। টয়লেট, স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে সিনেমা তৈরি হচ্ছে। এসব দেখে আমিও একটু উৎসাহিত হয়ে অনেকগুলো ক্লোথ ডাইপার কিনে ফেললাম সরাসরি কারখানা থেকে। বাজার মুল্য থেকে একটু কম দামেই পড়েছে সেগুলো। আমার বড় ইচ্ছা ভারতে সদ্যজাত শিশু থেকে এক বছরের বাবা মা রা তাদের শিশুদের জন্য এগুলো ব্যবহার করুক। আমি পরিক্ষা মুলক ভাবে শিশুদের বাবা মা দের দিতে চাই নুন্যতম দামে। দেখাই যাক না কে কিরকম ফল পায় এগুলো থেকে। আমরা তো খুবই খুশি আমাদের বাচ্ছাকে এক সুন্দর পরিষ্কার শিশুকাল দিতে পেরে। 

কেও যদি আগ্রহি হন ক্লোথ ডাইপার কেনার জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করুন। 

Whatsaap no : +821067341985. চাইলে ফেসবুকেও মেসেজ পাঠাতে পারেন। Sandipan Bera প্রোফাইলে ক্লিক করে। 
  

Tuesday, May 1, 2018

কাটাকুটি

                                                             
             কাটাকুটি

কাঠুরেতে কাঠ কাটে, ছড়া কাটে কবি, 
সিন্ধেলেতে কাটে সিন্ধ, এটা তার হবি।
প্যাঁচে প্যাঁচে কাটে ঘুড়ি, ব্যায়ামেতে ভুঁড়ি,
নাপিতেতে কাটে চুল, করাতেতে গুঁড়ি।
বেসুরোতে তাল কাটে, আলো কাটে কালো, 
জ্ঞান পেলে কাটে ভুল, মন্দয় ভাল।
মেছুনিতে মাছ কাটে, গাঁট কাটে চোরে।
সুখ পেলে কাটে দুখ, রাত কাটে ভোরে।
 বাজারেতে মাল কাটে, বসে বসে কাল।
কাস্তেতে কাটে ধান, শ্রমিকেতে খাল। 
গুনে গুনে কাটে দিন, বিষে কাটে বিষ
ক্ষয়ে গেলে পেনসিল ছুরি কাটে শিষ।
চ্যাঁচানিতে ঘুম কাটে,  দুধ কাটে টকে 
নরুনেতে নখ কাটে, দাগ কাটে চকে।
তলোয়ার কাটে সব, বোঁটি কাটে শাক
পথ কাটে বিড়ালেতে, অপমানে নাক।

Thursday, March 8, 2018

Happy women's day !!!

It's a beautiful world around. Here everything happens on facebook. If you want to know news, weather, somebody's personal life, somebody's present position on this globe, how somebody is feeling right now just click on the blue icon on your smartphone the universe is yours.
Well, today I didn't enter here to this beautiful world to talk about facebook, but about what I found out from facebook today - women's day. Facebook is saying today is international women's day.
Looks like everybody is enjoying women's day. I think men are celebrating more than women.
Men are posting smiling pictures of their near and dear women like mom, sister, wife, girlfriend/girlfriends, ex-girlfriends, girls who are friends etc. And girls are posting their over makeup super close up selfie to show something special is happening this day.
Well, many things are happening in this world. I am not a global expert, so I shall restrict this discussion to India only.
At this moment some pregnant lady is doing her ultrasonography to know whether the tiny little heart   which is bitting in her womb belongs to a boy/girl. Even though its illegal in India to detect the gender of a new coming baby before he/she come out from mother's womb you give some money and you know what it is. In the next moment, some serious discussion will be done to decide whether the life will continue or not. If boy definitely he will continue his journey. But if girl? Well, the meeting will continue. Happy women's day!!!
At this moment some very lucky girl is taking birth in India. And at the same time, a tree is planted or some amount of gold is deposited in the bank. What a good news !!! Wait, its not to celebrate the birth. The unlucky parents have burden of her marriage just after 20-25 years. Her parents invested money as tree or gold. This grown-up tree will help her to get the cost of her marriage. To fulfill her dowry. Happy women's day.
At this moment somewhere in India family is getting ready to take the dinner. The brother is studying in his study room. The sister, the loving sister is making the dinner and dinner place ready. After all she is girl, she has to take the responsibility of feeding her brother. The same brother will take oath on the "BHAIJUJH" that he will protect his sister when she with her life protected her brother every day. But men is strong so he will protect her. And how he will protect her? Just advising her not to go out alone because somewhere there is a rapist or eve teaser.  Happy women's day !!!
At his eventful moment somewhere some girl is having her best moment in her life. She is getting married. And the priest is chanting the "mantra". There is almost no role of the girl during the marriage ceremony. Either the girl's father will say he is donating his daughter to the boy, or the boy is saying he will take care of the girl. And the girl have only one mantra to say "From today I leave my father's identity and take my husband's identity". She will move from her parent's home to husband's home. She is homeless !!! Happy women's day.
Somewhere in India at this moment two boys are quarreling with each other. One of them is coward. He is getting abused by saying "Are you wearing 'Chudi' in your hand?" Happy women's day.
Somewhere in the facebook some big celebrity and so-called progressive person like Amitav Bacchan will post in twiter that women are "our" prestigious "Property" to describe Aiswarya rai, who is more successful than him. Women are our property !!! Happy women's day !!!
Somewhere some so open-minded Yogeswar Dutt will take "only" 1 rupee dowry to show how he respects women. And nobody will say even understand that it is not the question of how much money you took as dowry it is the question did you took or not. We are so habituated with it that even we lost our sensitivity. Happy women's day !!!
As always, I am an optimistic person and I saw things are changing in India even it slow - very slow. We need a women's world not a women's day. 
Have a true women's day.       

Monday, December 11, 2017

আবছায়া

ডিসেম্বর মাস ২০১৭। সকাল ৬ঃ৫৪। তাপমাত্রা ঋণাত্মক ১২ ডিগ্রী। মানে শীতকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্ক থেকে যত উপরে থাকে এখানে ঠিক ততটাই নিচে। এটা বর্ণনা করা খুবএকটা সহজ কাজ নয়। শুধুই অনুভব করার।

 বাইরে হিমেল, থুড়ি, হিমেলতর হাওয়ার প্রবাহ অবশ্য আমার জীবনে খুব একটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে না। ঘরের মধ্যে ঘর গরম করার জন্য ব্যবস্থা আছে। আমাকে শুধু একটা সুইচেই চাপ দিতে হয়। সেটা থেকে যে যন্ত্র চালু হয় তা একটা পাইপলাইনের জলকে গরম করে। সেই পাইপ লাইন ঘরের মেঝের নিচে জালকাকারে বিছানো আছে। গরম জল সেই জালের মধ্য দিয়ে গেলে ঘরের মেঝে গরম হয়ে যায় আর সেই সাথে গোটা ঘর। কি অদভুত ভাবনা। কি সরল অথচ কি  কার্যকর। তা সেই গরম মেঝেতে বসে আছি। মেঝের উপর অবশ্য একটা পাতলা বিছানা পাতা। তাতে একটা উষ্ণ অনুভুতি হচ্ছে। 
       


এখনও সূর্যদয় হয় নি। জানালার স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে রাস্তার বাতিগুলো কেমন নির্লিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে কুয়াশা নেই। জানালার কাঁচে হালকা একটা বাস্পের আস্তরণ জমেছিল যা কালক্রমে তরল জল ও বর্তমানে বরফের পাতলা  চাদরে পরিনত হয়েছে। সেই বরফের প্রলেপে রাস্তার আলো প্রতিসরণ হয়ে যখন ঘরে প্রবেশ করছে তার উজ্জ্বলতা অনেকাংশে কমে ম্লান হয়ে আসছে। একটু করুণ হয়ে। পাশের গগনচুম্বি অট্টালিকাগুলোর অনেক ঘরের আলোই জ্বলছে। জানিনা কেও ঘুম থেকে উঠে গেছে নাকি সারা রাত ঘুমোয় নি। ওদের জানালা আর আমার জানালার মৃদু অস্বচ্ছতা সেই আলোগুলোকে রাতের কালো আকাশে মিটমিট তারার মত লাগছে। রাস্তায় যান চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্বের বড় বড় শহর রাত জাগতে পছন্দ করে। তাই সারা রাত গাড়ির কোন বিরাম নেই। রাস্তাগুলো বিশ্রাম পায় শুধুমাত্র এই ভোরের বেলায়। একটু বিশ্রাম। 


আজ ঘটনাক্রমে উঠে গেছি একটু সকাল সকাল। ভোরই বলা যায় বাইরে আলো ফোটেনি যখন। পুত্র নিয়ন ও তার মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে মন্ত্রমুগ্ধের মত এসে বসলাম কম্পিউটারের সামনে। এই যন্ত্রটাই এখন সব। কাজ, বিনোদন। অন্তর্জালে এদিক ওদিক দিকভ্রান্ত হয়ে এসে পৌঁছালাম ব্লগে। হঠাৎ চোখে পড়ল ২০১৭ সালে কিছুই লেখা হয় নি। একটা গোটা বছর যে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। তাই ভবলাম কিছু একটা লিখি। 

ঘরের আলো নেভানো। আধা অন্ধকারে বসে লিখছি। লিখছি বললে ভুল হবে টাইপ করছি কম্পিউটারে। কিবোর্ড়ের হালকা টুকটাক শব্দটা চারিদিকের জমাট নিঃশব্দের বুকে একটু বেমানান লাগছে। এক পেয়ালা গরম চাও বানিয়ে নিয়েছি ইতিমধ্যে। সাথে বিস্কুট। 

জানিনা এরকম সময়ই আবেগ সবসময় আমাকে কেন গ্রাস করে বসে। মন চলে যায় কোন দূর দূরান্তে। স্মৃতিরা ভিড় করে। একএকটা অস্পষ্ট ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ঠিকভাবে দেখার আগেই যেন সেটা চলে যায়। অথবা আর একটা ছবি এসে পড়ে তার উপর। মন অশান্ত হয়ে ওঠে। বিচলিত হয় না। সেই অশান্তিও কেমন স্নিগ্ধতায় ভরা। একটা অবশ অবশ ভাব। যেন নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রন নেই।  হর্ষ বিষাদ মিলে মিশে একাকার। চোখ আপনা আপনি বুজে আসে।    

কতদিন সুর্যদয় দেখি নি। মনে পড়ে না শেষ কবে দেখেছি রাঙ্গা লাল সুর্য আকাশকে রাঙিয়ে দিচ্ছে। অন্ধকার কেটে একটু একটু ফর্সা হচ্ছে।  হয়ত কাক ডাকছে পাশের গাছ থেকে। মামার বাড়িতে থাকলে কোঁকোঁর কোঁক মুর্গির ডাকও শুনতে পাই। হালকা ঠান্ডায় চাদর মুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার বুডো দাদু মাটিতে চাল ছড়িয়ে দিচ্ছে মুর্গিদের খাবার জন্য। পরম যত্নে। এক পাল মুর্গি তা খাবার জন্য দৌড়ে আসছে কোঁক কোঁক করতে করতে। গোয়াল থেকে গরুর হাম্বা হাম্বা আওয়াজ। ওরাও যে জেগেছে। 

একবার সকাল সকাল গিয়েছিলাম জঙ্গলে। শাল দাঁতন বানিয়ে দাঁত মাজার জন্য। সকালের বন আমায় মুগ্ধ করেছিল। শুকনো পাতার উপর চলার মচ মচ শব্দ যেন আমার কানে ভেসে আসছে। 
পাতার কথায় মনে এল, ছোটবেলার ইসপ ফেবেলস বইএ পড়া ঘুঘু আর পিঁপড়ের গল্প। ঘুঘুর ফেলে দেওয়া পাতায় চড়ে কেমন করে পিঁপড়ে ফিরে এসেছিল নদীর পাড়ে। এরকম ভাবে জলের উপর ঘোরার সখ ছিল অনেক দিনের।  

একবার আমাদের গ্রামের পুকুরে একটা ভেলা বানানো হয়েছিল বাঁশ আর খড দিয়ে। মাছ ধরার জন্য। তা জেলেরা সেটা ব্যবহার করার পর পাড়ে বেঁধে রেখে চলে যায়। আমি দেখছিলাম সবকিছু আগাগোড়া আড়াল থেকে। জেলেরা চলে যেতেই আমার কৌতুহলি মন জেগে উঠল। আমি উঠে পড়লাম সেই ভেলায় আর দড়ি দিলাম খুলে। কিছুটা যেতে না যেতেই শুকনো খড় ভিজতে শুরু করল। আর ডুবতে শুরু করল ভেলা। এদিকে আমি সাঁতার জানি না। ভাগ্যিস তখন একজন এসেছিল পুকুরঘাটে। উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল ঘরে। আর ছোটবেলার সবসময়ের পুরস্কার বিনা পয়সায় বকুনির অভাব ঘটে নি। 

একবার এমনি ভাবেই আমি বসে ছিলাম পুকুরের পাড়ে বহুক্ষণ। বেশ কয়েক ঘন্টা। একটা কাঁকড়ার খোঁজে। এক বন্ধু আমাকে গল্প শুনিয়েছিল সে নাকি কাঁকড়ার পায়ে দড়ি বেঁধে খেলার ধানক্ষেত চাষ করেছিল কাঁকড়ার দাঁড়া দিয়ে। আমারও মনে হয়েছিল আমারও একটা কাঁকড়া চাই। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কাঁকড়া কোথায় পেলি? সে বলেছিল পুকুরের পাড়ে বসেছিলাম। একটা কাঁকড়া জল থেকে উঠে এল। আমি গিয়ে ধরে ফেললাম। আমিও অপেক্ষা করেছিলাম পুকুরপাড়ে জলের ধারে। ঘন্টার পর ঘন্টা চেয়ে ছিলাম জলের দিকে। অধির আগ্রহে। কোন কাঁকড়া উঠে আসে নি। 

বসে থাকার আর একটা কাহিনী মনে আসছে। তখন ছোট ছিলাম। অনেক ছোট। সবে হয়ত গুনতে শিখেছি। ঘরের দেওয়াল ঘড়িটা দেখিয়ে বাড়িতে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কি? কাকু বলেছিল এটা দিয়ে সময় মাপা যায়। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি ভাবে? কাকু বলেছিল এই যে বড় কাঁটাটা আছে সেটা এক পাক ঘুরলে এক ঘন্টা হয়। কাকু আমাকে ছোট ভেবে সেদিনের ক্লাস ওখানেই শেষ করেছিল। আমি ভেবেছিলাম আমি জেনে গেছি সময় কি আর ঘড়ি কি ভাবে দেখে। সেদিন দুপুরে বাড়ির সবাই অলস আড্ডায় ব্যস্ত ছিল। কেও একটা আনমনে জিজ্ঞাসা করেছিল কটা বাজে? হঠাৎ আমি বলে উঠেছিলাম আমি দেখে আসছি কটা বাজে। আমার জ্ঞান এটুকুই যে বড় কাঁটাটা একবার ঘুরলে এক ঘন্টা হয়। সেদিন আমি ঘড়ির সামনে একঘন্টা বসেছিলাম। উত্তপ্ত দুপুরে কেও খেয়াল করে নি আমি কত ঘামছি। এক ঘন্টা পর যখন আমি ফিরে এসেছিলাম কেও আমাকে জিজ্ঞাসা করে নি কটা বাজে। আমি মনে করিয়ে দিয়েছিলাম যে আমি ঘড়ি দেখতে গিয়েছিলাম। ঘরের সবাই তো অবাক। এতক্ষন কি করছিলাম। যাই হোক শেষে জিজ্ঞাসা করেছিল কটা বাজে। আমার উত্তর ছিল এক ঘন্টা হয়ে গেছে। সেদিন না বুঝলেও পরে বুঝেছিলাম কেন তখন ঘরে হাসির রোল উঠেছিল।
 
দুপুর মানেই তা শেষ হয়ে আসবে বিকেল। আর বিকেল মানেই খেলা। খেলার মাঠে যে কি কি ঘটেছিল সেই ছবি একটার পর একটা এসেই চলেছে। অজস্র। অফুরন্ত। ছেলেবেলাটাই যে কেটেছে খেলার মাঠে। কখনও ভাবি নি বিকেল বেলাও ঘরের ভেতর কাটানো যায়। সেই বর্ষার বিকেলে কাদামাঠে ফুটবল খেলা আর একবার খেলতে চাই। সেই সারা বিকেল এদিক সেদিক সাইকেল নিয়ে ঘোরা আর একবার ঘুরতে চাই। ঘড়িকে পিছনে ঘুরিয়ে যেতে চাই সেই বিকেলে যেদিন বন্ধুদের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে চলে গিয়েছিলাম অনেক দূর ঘর থেকে। লুকোবার জন্য। কিন্তু লুকোবার জায়গা পাই নি। বন্ধুরা খুঁজে না পেয়ে আমাকে ছাড়াই শুরু করেছিল খেলা। সন্ধ্যা হতে সবাই ফিরে গিয়েছিল ঘরে। আমি ছাড়া। অজানা জায়গায় সন্ধ্যা হওয়ায় রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলাম। অন্য গ্রামের কোন অজানা লোক সাইকেলে করে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছিল ঘরে। ঘরের বকুনি তো উপরি পাওনা। 

সেদিন ভাবি নি আজ কুড়ি তিরিশ বছর পর কোন এক ঠান্ডা সকালে দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সেই দিনের ঘটনা চোখে জল আনবে। হারিয়ে যেতে চাই আবার সেদিনের মত। জানি আজ আর কেও সাইকেলে করে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে যাবে না ঘরে। সাইকেলের হয়ত অভাব নেই এখনও কিন্তু ঘরের বড় অভাব। ছোট থেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা ঘুরতে ঘুরতে যেমন দুনিয়াকে ঘর করে নিয়েছি তেমনি হারিয়েছি নিজের ঠিকানা। ঘর বলতে আর কোন জায়গার ছবি হঠাৎ মাথায় আসে না। একটা ঘর চাই। 

বাইরে ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। লাল হচ্ছে আকাশ। পাশের পাহাড়ের মাথার উপর তার আভা এসে পড়েছে। কি সুন্দর।  স্বপ্ন দেখছি কি? কেন বার বার মনে হচ্ছে কবে কোথাও ঘটেছে এই ঘটনা। মনটা কেন শিশু হয়ে উঠছে আজ? 

রাস্তায় একটা গাড়ির হর্নের বিকট আওয়াজ নিঃশব্দ খান খান করে দিল।  

সব সুন্দরই কোন অসুন্দরকে ঢাকার চাদর। সুন্দরের ঠিক নিচে থাকে একটা কঠোর বাস্তব। যেমন ওই ঢেও  খেলান অপরূপ পাহাড়ের নিচেই আছে কঠিন পাথর, ওই লাল সুর্যের ভেতর আছে গনগনে আগুন।  

ফিরে এলাম বাস্তবে। সিওল। ১২ই ডিসেম্বর। বাইরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫ ডিগ্রী নিচে। 

পুত্র নিয়ন হাত পা নাড়তে শুরু করেছে। খেলতে হবে ওর সাথে। দেখি ছেলেবেলা আবার শুরু করতে পারি কি না। 

Tuesday, November 29, 2016

ডিয়ার িZ নদেগি

ডিয়ার িZ নদেগি,
যখন তুমি বলেছিলে বড় নোট পাল্টে ফেললে অন্তত ভারতের মধ্যে থাকা কাল টাকা শেষ হয়ে যাবে, সৎ (অন্তত তুমি তাই বলেছিলে) ও সাদা টাকাধারি সাধারণ মানুষের শত অসুবিধা সত্ত্বেও আমি তোমাকে সমর্থন করেছিলাম।

অনেক বড় বড় অর্থনিতিবিদ (যার মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনিতিবিদ ডঃ অমর্ত সেনও আছেন) যখন বলছেন যে এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনিতিতে দীর্ঘমেয়াদী খারাপ ছাপ ফেলবে তখনও আমি তোমাকে সমর্থন করেছিলাম। কারন ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়েছে যে সৎ পথে কামানো ডাল ভাত অসৎ পথে কামানো বিরিয়ানির থেকে ভাল।

আমি আর আরও লক্ষ লক্ষ লোক, যারা কোন দোষ না করা সত্ত্বেও হাসিমুখে ব্যাঙ্কএর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, শুধুমাত্র এটাই চেয়েছিলাম যে তুমি কালটাকাধারিদের শাস্তি দাও।

কিন্তু ডিয়ার িZ নদেগি,
আমরা ভগ্নহ্রিদয়ে দেখছি সংসদে কালো টাকা ধারিদের মাফ করার জন্য বিল পাস হচ্ছে। কালো টাকার ৫০ % সরকারকে দাও আর কালো টাকা সাদা? এই কারনেই কি তুমি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেদের সীমান্তে পাহারারত সৈনিকদের সাথে তুলনা করেছিলে? এটাই কি তোমার সৈনিকদের প্রতি তোমার সম্মান? একজন আতঙ্কবাদীকে ধরো, সে তার দোষ স্বীকার করুক আর তাকে যেতে দাও? ডিয়ার িZ নদেগি,

আমি জানি যে তুমি বলেছো তুমি ওই টাকাগুলো গরীব লোকেদের জন্য খরচ করবে। কিন্তু দয়া করে বোঝার চেষ্টা করো আমাদের (এমনকি গরিবদেরও) টাকা কম নেই, আমাদের যেটা কম ছিল আর যেটা তুমি দেবে বলে অঙ্গীকার করেছিলে সেটা হল সম্মান।

একটা চোর আমাদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। তুমি এসে আমাদের পেটালে চোরটাকে ধরার জন্য, আমরা ছুটে গিয়ে চোরটাকে ধরলাম, তখন তুমি চোরটাকে বললে চুরির মালের অর্ধেক আমাদের দিয়ে পালিয়ে যেতে?

ডিয়ার িZ নদেগি,
তুমি যখন তোমার ছাতির পরিধি শুনিয়েছিলে আমরা ন্যানোমিটারের চেয়ে কম দৈর্ঘ মাপতে সক্ষম হওয়া সত্তেও তোমাকে সন্দেহ করিনি। কিন্তু আমার বিনিত নিবেদন এই যে তোমার কাছে আরও ৩০ দিন মত আছে (তুমি ৫০ দিন চেয়েছিলে), টাকার সাথে আমাদের সম্মানটা ফিরিয়ে এনে দাও। নাহলে.........!!! নাঃ আমাকে বলতে হবে না নাহলে কি হবে !!!

এই ব্যাপারে আমি তোমারই উদ্ধৃতি (বানানটা ঠিক করে টাইপ করা গেল না) তুলে ধরতে চাই " আমার প্রিয় দেশবাসি, আমাকে ৫০ দিন দিন, আমি 
আপনারা যে রকম ভারতবর্ষ চান সে রকম ভারতবর্ষ আপনাদের দেব। না হলে আপনারা যে চার রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াতে 
বলবেন আমি সেই চৌরাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াব আর যে সাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব।"

ডিয়ার িZ নদেগি,

আমি তোমাকে ভালবাসি। দয়া করে নিজের অঙ্গীকার পুরন করো। না হলে ভালবাসার মানুষকে কিছু করা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে যাবে। 



Dear Zindagi,
When you promised that changing the big notes will end the black money, at least which is present inside India, despite the problems of white money holder honest (You told this) and common people I supported it.
Despite the fact that many well known Economists (Including Noble prize winner Dr Amarta Sen) are saying that due to this decision India will have to face long term negative effect on Indian Economy, I supported the decision. Because from the childhood we are taught to have simple rice and dal by earning honestly than eating biriyani earning by other way.
Me and other millions of people, who have done no wrong and still standing in the long queue towards the bank counter with smile in face, just wanted that you will punish the black money holders.
But what is this dear Zindagi? We saw bills are passing just to forgive the culprits. Give 50% of your black money to government and its white? Is this the reason the people were standing in the queue were compared with soldiers in the border? This is how you respect the soldiers? Catch a terrorist, just let him/her confess the terror and let them go?
Dear Zindagi, I know you told that you will spend those money for the poor, but please understand we dont lack food or money (Yes even the poor), what we were lacking and you promished to fulfill is dignity.

A thief stole our money, you beat us to chase the thief, and when we caught him/her you just asked the thief to give the half of the stolen thing to us and let them go?

Dear Zindagi,
When you announced the circumference of your chest we didn't doubt it despite the fact that we can measure even less than nanometer scale. But I humbly request you that you have still ~30 days left (You asked 50 days) and please bring us back our respect not only the money. Otherwise ........!!! Sorry I dont have to say what will be Otherwise !!!
Because even you told that also I just want to quote you "Give me 50 days. I shall give you what kind of India you want. Otherwise I shall come to the crossroad where you want and I shall take the punishment what you give me".
Dear Zindagi,
We love you please fulfill your promise. Otherwise it will be very difficult for us to do something whom we love.

Saturday, November 5, 2016

দিনলিপি - জেবুদো (জেবুদ্বীপ)

২০১৬/১১/০৫
আজ শনিবার। কাল থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম আজ ক্রুতিকে নিয়ে যাব ইনছন তারপর ফিরে আসব ল্যাব শেষ করে। কারন শনিবার তাড়াতাড়ি ল্যাব শেষ হয়ে যায়। তা ছাড়া আর একটা মজার জিনিষ করার ছিল। ভেবেছিলাম শনিবার রাস্তায় ট্রাফিক কম থাকে তাই এক ঘন্টার মধ্যে পৌছে যাব ইনছন। 
গাড়ি নিয়ে বের হলাম অনেক আশা নিয়ে যে ফাঁকা রাস্তায় সাঁই সাঁই গাড়ি চালাব। কিন্তু সব আসায় জল ঢেলে রাস্তায় এত ভিড় যে গাড়ি ধিরে ধিরে চলতে লাগল। যাই হোক, আমি আবার কায়দা করতে গিয়ে হাইওয়ে ছেড়ে অন্য রাস্তায় ঢুকলাম তাড়াতাড়ি যাবার জন্য। কিন্তু সে আবার হিতে বিপরীত। আরো জ্যাম আর ট্রাফিক। মেজাজ অত্যন্ত বিগড়ে গেল। অনেক কষ্টে নিজেকে ঠিক রাখলাম। সবচে বড় ব্যাপার এতই দেরি হল যে ল্যাবে ১২ টার পর পৌছালাম। 
যাক, যা হবার হয়ে গেছে। ল্যাবে তো পৌছনো গেল না। ক্রুতি একটা আইডিয়া দিল। আমরা রেষ্টুরেন্টে খাব। খেলাম আরবিক্সএ। সলমন মাছ। আর বিরিয়ানি রাইস। 
তারপর আইডিয়াটা এল আমার মাথায়। দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে। একটু গ্রাম দেখে। ম্যাপ খুলে দেখলাম ৫০-৬০ কিলোমিটারের মধ্যে একটা ছোট দ্বীপ আছে। ব্যাস বেরিয়ে পড়লাম। 
সুন্দর ছিল এই সফর।
























Sunday, October 30, 2016

এমনি একটা বিকেল

আমাদের দেশে হেমন্ত কালটা আছে বটে তবে শরৎ আর শীতের মাঝে ঠিক অনুভব করা যায় না। এখানে হেমন্ত কালটা বেশ বোঝা যায়। যদিও হেমন্ত কালের সঠিক অনুবাদ Autumn হয় কিনা ঠিক বলা যায় না। এখানে গাছের পাতাগুলো নানা রঙ্গে পালটে যায়। লাল হলুদ গেরুয়া, আরও কত কি। অপরূপ সুন্দর হয়ে যায় চারদিক। আমার বাড়ির কাছে একটা পাহাড় আছে। সেখানেও চারদিকে দারুন রঙ্গে ভরে ওঠে। এই সপ্তাহে ভেবেছিলাম সেই রঙ এসে গেছে। তাই ছবি তুলতে গিয়েছিলাম সেখানে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম এখনও ভালভাবে সব গাছে রঙ আসে নি। একটু হতাশ হলাম । তাই শহর থেকে একটু দূরে যেতে ইচ্ছা করল।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ। ঠান্ডা একটু বেড়েছে বটে। পাড়ি দিলাম শহর থেকে দূরে। শিওল শহরের উত্তরে, উত্তর কোরিয়ার সিমানার কাছে একটা ছোট শহর বা গ্রাম পাজু। গ্রামের দিকে এলাম অনেক দিন পর। সদ্য ধান কাটা হয়েছে। চারিদিকে সেই চেনা ধানের গন্ধ। আহা আমার ছোটোবেলার গন্ধ। মন কেমন করছিল ঘরের জন্য। আজ সেখানে সবাই বাজি পোড়াচ্ছে। দেওয়ালি যে আজ। মাঠের মধ্যে দিয়ে সুন্দর রাস্তা। আর থাকতে পারলাম না। নেমে পড়লাম ফাঁকা ক্ষেতে। একটু দূরে লঙ্কা, তিল, বাঁধাকপির ক্ষেত। হাত দিয়ে ছুয়ে দেখলাম। স্মৃতির চাকাটা অনেক ঘুরে গেল।
সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। ঠান্ডা বাড়ছিল। দূরে পাহাড়ের কোলে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছিল রবিমামা।
ঘরে ফিরতে হবে।